ভাল থাকার লড়াই

Comment

Blog

আজ ফতেমার (নাম পরিবর্তিত ) মনটা খুব খারাপ শনিবার হওয়া সত্যেও সে ঘরে মুখ ভার করে বসে আছে। তার আব্বা তাকে জিজ্ঞেস করলেন কিরে কি হয়েছে ? ফতেমা উত্তর দিল আজ Treasures of Innocence এ আমাদের ই-দৃষ্টিকোণ অর্থাৎ কম্পিউটার ক্লাস ছিল কিন্তু লকডাউনের জন্য বন্ধ আছে। একই অবস্থা জয়, বিকাশ, আকরম, মার্টিন, পূজাদের (প্রত্যেকের নাম পরিবর্তিত) কারন তারা মজার মজার জিনিস শিখতে পারছে না এবং ই-দৃষ্টিকোণে আসতে পারছে না অনিন্দিতা দিদির ক্লাস সহ অন্যান্য ক্লাস করতে পারছে না।  ওরা রোজ ভাবে করবে আবার দাদুর সাথে দেখা হবে, অনিন্দিতা দিদির ক্লাস করবে, শ্রেয়াম দাদা মেখলা দি, মহুয়া দিদি, শ্রেয়া দি আরো কত দাদা দিদিরা।

রানী দি র কাছে গল্প শোনা আর কত কত মজা – কারোর সাথে দেখা নেই….

প্রত্যেকেই স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী। 

আজ পৃথিবী এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।  কঠিন রোগ পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে গ্রাস করছে।  ডাক্তার, বিজ্ঞানী, পুলিশ, স্বাস্থকর্মী, পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কর্মীরা অনবরত লড়াই করে চলেছে পৃথিবীকে সুস্থ করতে তার প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে।  সরকার প্রথমে ২১ দিন পরে সেটা বাড়িয়ে আরও ২১ দিন লকডাউন ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিজ গৃহে থাকতে অনুরোধ করেছেন। যখন রুটি রুজির টান তবুও সবাই সরকারের অনুরোধ যথাসাধ্য মেনে চলেছে আর আমাদের ছাত্র ছাত্রীরাও তার ব্যতিক্রম নয়। 

এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা চেষ্টাকরছি আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের সেই একচিলতে ঘরে পৌঁছে যেতে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। আর্থিক ভাবে সাহায্যের প্রস্তুতির সাথে সাথে আমরা মানসিক ভাবেও দৃঢ়সঙ্কল্প বদ্ধ কারন এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য।  তাই আমরাও ময়দানে নেমে পরলাম আমাদের যোদ্ধাদের নিয়ে।

সীমা দি, অনিন্দিতা দি, মেখলা দি, আমি – আমরা সকলে রানী দিদির তথ্যাবধানে নির্দিষ্ট ভাবে দায়ীত্ব ভাগকরে নিলাম এবং ফোনের মাধ্যমে আমাদের শিশুদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছি অনবরত। WHO এর গাইডলাইন অনুসরণ করে তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে চলেছি।

আমাদের সাথে কথা বলতে পেরে আমাদের কমিউনিটির ছাত্রছাত্রীরা আপ্লুত।  আমাদের প্রতিজ্ঞা এই বিশ্বমহামারির সময় আমাদে ছাত্রছাত্রীদের মানসিকভাবে সাস্থবান রাখা।  তাদের আমরা নির্দিষ্ট কাজ দিচ্ছি তারাও ঠিক সময় তাদের কাজগুলো করে জানাচ্ছে এতে তারা যেমন নিজেদের ব্যস্ত রাখছে সেই ভাবেই ঘরবন্দী অবস্থাতেও ভাল থাকছে। প্রত্যেকে তারা তাদের মনের কথাগুলো তাদের ভাল লাগা, খারাপ লাগা, আনন্দ কিংবা দুঃখ গুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছে আমরা তাদের মনে জোর দিয়ে যাচ্ছি কারন এই লড়াইয়ে  আমরা জিতবই।  মানব সভ্যতা এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং আমাদের ছাত্রছাত্রীরাও সেই দিগন্তের কাণ্ডারী হবে। 

শুধু একটাই অনুরোধ পৃথিবীর  এই বিপদে সবাই দয়া করে ঘরে থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। 

কোনও রকম COUNSELLING এর দরকার পড়লে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।  এছাড়াও আপনারা যদি কোনও রকম ভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারেন অবশ্যই যোগাযোগ করুন – 
+91 98309 92637

www.treasuresofinnocence.org 

 কলমে : গোলক দেবনাথ
(সেচ্ছাসেবক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Treasures of Innocence