Treasures of Innocence » Blog Archives

Tag Archives: toi

আমার চোখে Treasures of Innocence

 

বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, “গীতা পাঠের থেকে মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলা অনেক ভাল”…

তাই পুঁথিগত শিক্ষার সহিত খেলাধুলা, শরীরচর্চাতেও মনোযোগী হওয়া উচিত। একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে সামান্য মানুষ রূপেই জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সেই শিশুটিই পারে একদিন সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে উঠতে। Treasure of Innocence সেই সমস্ত শিশুদের অসামান্য হয়ে উঠতে সাহায্য করছে,তাদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করছে, যারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, যারা বঞ্চিত, আপনাদের কথায় ‘গরিব’। প্রদীপের আলোতে চারদিক আলোকিত হলেও আমরা জানি প্রদীপের তলাতেই থাকে অন্ধকার। তাই, Treasures of Innocence জোনাকি হয়ে তার ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়ে মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সেই প্রদীপের নিচের অন্ধকার মোচনে সদা সচেষ্ট।

 

 

বিগত কয়েক বছর ধরে তারা তাদের বার্ষিক অনুষ্ঠান “Catch Them Young Inter-School Meet” এর আয়োজন করে আসছেন। কোলকাতা ও তার আশেপাশের ১০ টি বিদ্যালয় এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বছরের মাঝামাঝি পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে থেকে পড়াশুনা ও অঙ্কনের প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করে বেছে নেওয়া হয় ইন্টারস্কুল টপারদের, তারাও পুরস্কৃত হয় এই মঞ্চে।

 

এই বছরের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল “শিশুর অধিকার”। এই ভাবনা কে মাথায় রেখে সমাজের চলমান সমস্যার উপর ভিত্তি করে আয়োজন করা হয়েছিল নাট্য প্রতিযোগিতা, যা একাধারে ছাত্রছাত্রী ও দর্শকদের সচেতন হতে সাহায্য করে। এই বিদ্যালয়গুলি থেকে শিশুরা আবার Quiz Competition আর Talent Hunt এ অংশগ্রহণ করে তাদের অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

 

 

Treasure of Innocence এখানে কান্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। নৌকার পাল তুলে ছেড়ে দিলে সেই নৌকা হাওয়ার বেগে চলবে ঠিকই কিন্তু তার দিকভ্রষ্ট হয়ে যাবে । Treasure of Innocence এখানে নিজে হাল ধরে নৌকার শিশুদের তাদের গন্তব্যের দিকে, তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

 

 

কে বলতে পারে যে এই সমস্ত শিশুরাই ভবিষ্যতে ডাক্তার, শিক্ষক, নৃত্য শিল্পী কিংবা গায়ক হবে না। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর সনামধন্য মানুষজন, তাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরের মনিকোঠা স্পর্শ করে গেছে ছোটো ছোটো ভাইবোনদের সুপ্ত প্রতিভা।

 

যতই দামী সোনার খাঁচায় আটকে পাখি পোষা হোকনা কেন ,পাখি যদি ডানা মেলে উড়তে না পারে তাহলে সেই পাখি তার জীবনের সারমর্ম অনুভব করতেই পারে না। Treasure of Innocence শৈশবের সেই পাখিদের আকাশে ডানা মেলে ওড়ার জন্য মঞ্চ গড়ে দিতে সদা উদগ্রীব। তাদের মূল মন্ত্র: আগে ভালো মানুষ হও কারণ,  আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে সমাজের চালিকা শক্তি হবে।

 

আর তাদের সাথে পথ চলতে পেরে আমিও গর্বিত। আমি Treasure of Innocence এর সাথে যুক্ত সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর সাথে সাথে সমাজের বাকি সকল সুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের অনুরোধ করব, আপনারাও এদের পাশে এসে দাঁড়ান কারণ, বিন্দু বিন্দু জলকনা ই একদিন সিন্ধুর আকার নেবে যা সমাজের সেই সমস্ত মানুষের কাজে লাগবে যাদের সত্যিই আপনাদের সাহায্যের দরকার।

এখানে আরও একটি জিনিস চাক্ষুস করলাম যে  কি ভাবে নারীশক্তির অদম্য ইচ্ছা একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান সহ সারা বছরের শিক্ষা ও সেবামূলক কাজকর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আলোর দিকে।

আমি Treasure of Innocence এর সমস্ত মানুষকে জানাই আমার অন্তরের মনিকোঠা থেকে সেলাম ও প্রনাম।

 

–গোলক দেবনাথ (ভলান্টিয়ার)

Published by:

Treasures of Innocence – My Experience as an Intern

আমাকে Tata Institute of Social Science  থেকে Treasures of Innocence (ToI)  নামক একটি NGO তে internship করতে পাঠানো হয়। ToI তে এসে NGO সম্পর্কে আমার ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়।এটি এমন একটা NGO যারা under privileged বাচ্চ‍াদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশের উপর জোর দেয়।ToI এর অন্যতম একটি  প্রয়াস Catch Them Young – যেখানে সারাবছর ধরে ১০টি স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে interactive method এ ক্লাস করানো হয়। বিভিন্ন রকম স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপরও জোর দেওয়া হয়। সমাজের অন‍্য বাচ্ছাদের মতো সবরকম সুযোগ সুবিধে হয়তো তারা পায়না, তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যে সকল সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তা খুঁজে বের করে তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা ToI এর অন্যতম একটি কাজ। আমিও যে ToI এর এই Catch Them Young  প্রয়াসটিতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি সেটা আমার কাছে একটা বড়ো পাওনা।

 

আমি যখন প্রথম দিন এই স্কুলগুলোতে ক্লাস করাতে গেছি, দেখেছি স্টুডেন্টরা আমাকে এক মুহূর্তেই আপন করে নিয়েছে – মনে হয়েছে আমি যেন ওদের কতদিনের চেনা, কতদিনের পরিচিত। আমিও নিজেকে ওদেরই একজন মনে করতে পেরেছি, মানিয়ে নিতে পেরেছি।

আমি ওদের Learning Assessment এর দিনগুলোতে গার্ড দিয়েছি। Art Competition এ ওদের আঁকা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

আমি নিজেও আর্ট এন্ড ক্র্যাফট এর বিভিন্ন কাজ শিখেছি  ToI এর থেকে। অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে আমি যে আন্তরিক ব্যবহার পেয়েছি তা ও ভোলার নয়।

আমি  ToI এর ফাউন্ডার মিস রানী ভবানী এবং জেঠুর কাছে অনুপ্রেরণা পেয়েছি সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কাজ করার। আমি এখানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত।

আমি চাই ভবিষ্যৎএ  ToI আরো অনেক স্কুল এর ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করুক।

 

Partha Das

Student / Tata Institute of Social Science

Published by: