কমলাম্মা – আমাদের হিরো ঠাম্মা

Comment

Blog Uncategorized

কমলাম্মা মাইসোরের চেন্নাগিরিকোপ্পালা নামক এক  গ্রামে থাকা, শোত্তর বছরের এক বৃদ্ধা  | তার দুটি ছেলেও আছে, তবে সে এখনো নিজে খেটে খায় | তার স্বামী অনেক বছর আগেই মারা গেছেন | স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকেই সে লোকের বাড়ি-বাড়ি কাজ করে খায় |

.

করোনা সংক্রমণের কারণে লোকডাউন হয়ায় আর তার বৃদ্ধ বয়সের কারণে সে নিজের কাজ হারিয়ে ফেলে | সরকারের দেয়া ছশো-টাকা পেনশন-ই  তার একমাত্র ভরসা সংসার চালানোর জন্য | এই লোকডাউনে তার ঘরে কিছু খাবার মতো ছিল না |

.

তার কষ্টের কথা শুনে স্থানীয় এক নেতা রোটারি হেরিটেজ মাইশুরু  নামক এক সঙ্গস্থায় গিয়ে কমলাম্মা কে খাবার পাঠানোর আবেদন করেন |  রোটারি হেরিটেজ মাইশুরু থেকে “অন্নদান” শিবির এর মাধ্যমে ঠাকুমাটার কাছে খাবার পৌঁছে যেত |

.

পনেরো দিন আগেকার ঘটনা, একদিন কমলাম্মা রোটারি হেরিটেজ মাইশুরু সঙ্গস্থার অফিস এ গিয়ে পৌছাল | সবাই ভাবলো সে বোধয় খাবার পবার আশায় এসেছে | সেই অণুযাই তার দিকে একটা খাবারের প্যকেট বাড়িয়ে দেয়া হলো | কিন্তু সে সেটি গ্রহণ করল না | প্রথমে দ্বিধা বোধ করলেও, কিছুক্ষন পর শাড়ির আঁচলে বাঁধা পুটলি থেকে একটি পাঁচশ-টাকার নোট বের করে বলল, ” আমি জানি এই টাকাটা খুব-ই  সামান্য কিন্তু এর থেকে বেশি দেয়ার আমার ক্ষমতা নেই| কাল-ই আমি আমার পেনশন পেয়েছি, তাই আজ এলাম | আমি দেখেছি তোমরা গরিব-দুঃখীদেরকে অনেক দিন ধরে খাবার খাওয়াছো এই কঠিন সময় | আমার তরফ থেকে একটা ছোট্ট অবদান, রাখো |” সঙ্গস্থার লোকজন লজ্জিত হয়ে টাকাটা প্রথমে তাকে ফিরিয়ে নিতে বলল কিন্তু সে অনুরোধ করায় তার সন্মান রাখতে অবদান টি  সঙ্গস্থা থেকে গ্রহণ করে  নিল  আর তার এই উদারতার গল্প ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব জায়গায় ছড়িয়ে দিল | কমলাম্মা ঠাকুমা আমাদের শেখাল যে, কাউকে কিছু দেয়ার জন্য আসলে বড়ো মন দরকার, সে আমাদের আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন |

.

 কলমে :  রচনা দাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Treasures of Innocence